ফলে প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ উপাদানের সরবরাহ সংকট তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে বিশ্বের অন্যতম বড় প্রযুক্তি কোম্পানি অ্যাপলের ওপরও। প্রয়োজনীয় চিপ ও অন্যান্য যন্ত্রাংশের সংকটে চাহিদা অনুযায়ী আইফোন ও ম্যাক উৎপাদন করতে পারছে টেক জায়ান্টটি। খবর রয়টার্স।
অ্যাপলের শেয়ারদর গত শুক্রবার প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। পতন অব্যাহত থাকলে দ্রুতই অ্যাপলের বাজারমূল্য প্রায় ৫০০ বিলিয়ন বা ৫০ হাজার কোটি ডলার কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির অবস্থানও ফের হারাতে পারে অ্যাপল।
কয়েক দিন আগেই এনভিডিয়াকে পেছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান কোম্পানির মুকুট ফিরে পেয়েছিল অ্যাপল। একই সঙ্গে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজারমূল্য ছুঁয়ে ইতিহাস গড়ে কোম্পানিটি। অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক এ সরবরাহ সংকটকে ‘খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ক্রিয়েটিভ স্ট্র্যাটেজিসের প্রধান নির্বাহী বেন বাজরিন বলেন, ‘অ্যাপলের মতো বড় একটি কোম্পানিও যদি সরবরাহ শৃঙ্খলে নমনীয়তার অভাবের কথা জানায়, তাহলে বিষয়টি পুরো প্রযুক্তি খাতের জন্যই উদ্বেগের।’
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো এখন এআই ডেটা সেন্টার তৈরিতে বিপুল বিনিয়োগ করছে। এসব ডেটা সেন্টারের জন্য উন্নত চিপ ও বিপুল পরিমাণ মেমোরি চিপ প্রয়োজন। ব্যাপক চাহিদার সঙ্গে উৎপাদন ও সরবরাহ তাল মেলাতে না পারায় বাজারে চিপ ও মেমোরির সংকট তৈরি হচ্ছে। একই সঙ্গে এসব উপাদানের দামও বাড়ছে। এ পরিস্থিতি চলতি বছর ব্যক্তিগত কম্পিউটার বা পিসি ও স্মার্টফোনের বাজারের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সরবরাহ সংকটের পাশাপাশি অ্যাপলের নতুন প্রান্তিকের আর্থিক পূর্বাভাসও বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছে। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত পূর্বাভাসে চলতি প্রান্তিকে কোম্পানিটি ৯-১১ শতাংশ আয় প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করেছে। অন্যদিকে ওয়াল স্ট্রিটের বিশ্লেষকরা প্রায় ১২ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
এছাড়া সম্প্রতি অ্যাপলের সার্ভিসেস ব্যবসার প্রবৃদ্ধিও মন্থর হয়েছে। জুন প্রান্তিকে আইফোন বিক্রি ইতিবাচক থাকার পরও সার্ভিসেস ব্যবসার দুর্বলতা নিয়ে বিনিয়োগকারীরা উদ্বিগ্ন।
অ্যাপলের সার্ভিসেস ব্যবসার মধ্যে অ্যাপ স্টোর, অ্যাপল মিউজিক ও অ্যাপল টিভির মতো সেবা রয়েছে। আইফোন বিক্রি বাড়লে সাধারণত এসব সেবার ব্যবহারও বাড়ে। কারণ আইফোন ব্যবহারকারীরা অ্যাপ স্টোরে কেনাকাটা এবং অ্যাপলের বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা ব্যবহার করেন। ফলে আইফোন বিক্রি শক্তিশালী থাকার সময় সার্ভিসেস ব্যবসার প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়াকে বিনিয়োগকারীরা গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন।